আমিরাত সংবাদ টপ নিউজ

ঈদ উপলক্ষে ৯৬৯৮ ইউএই’র উপহার সামগ্রী বিতরণ

আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষ্যে ৯৬৯৮ ইউ,এ,ই চ্যাপ্টারের উদ্যোগে প্রবাসী বাংলাদেশী পরিবার ও শ্রমিকদের ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরন করা হয়েছে। তিনদিনব্যাপী এই কার্যক্রম শুরু হয় গত সোমবার।

৯৬৯৮ ইউ,এ,ই চ্যাপ্টার। বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষাবোর্ড থেকে ১৯৯৬ সালে এস,এস,সি এবং ১৯৯৮ সালে এইচ,এস,সি পাস করেছে যারা, তাদের নিয়েই গঠিত ৯৬৯৮ গ্লোবাল এর একটি অংশ হলো এই ৯৬৯৮ ইউ,এ,ই চ্যাপ্টার।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে এই অব্দি ৫২ জন সদস্য আছেন এই সংগঠনের। পার করেছে ২টি বছর। ৩য় বছরের শুরুটা অনেক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ১৭ই এপ্রিল ২০২০ করার কথা থাকলেও, সাম্প্রতিক করোনা মহামারীর কারণে অনুষ্ঠান স্থগিত হয়।

বিগত ২ বছরে সংগঠনটি অংশ নিয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন দুর্যোগের মুহূর্তে। বন্যা, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সাহায্য সহ বিভিন্ন জনকল্যানমূলক কাজে অংশ নিয়েছে গ্রুপটি। সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক করোনা মহামারীর কারণে মুখ থুবড়ে পড়ে গোটা বিশ্বের। অচলাবস্থার সম্মুখীন হয় বিশ্ব অর্থনীতি। যার প্রভাব পড়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতেও। অনেক লোক হয়ে পড়ে বেকার। অনেক ব্যবসায়ী সম্মুখীন হন মোটা অংকের লোকসানের। সবচাইতে সমস্যায় পড়ে মধ্যবিত্ত শ্রেনীর পরিবারগুলো, যারা কারো কাছে চাইতেও পারেনা কিছু।

Advertisements

৯৬৯৮ ইউ,এ,ই চ্যাপ্টারের সদস্যবৃন্দের ইচ্ছাপোষণে পরিকল্পনা নেয়া হয়, আসন্ন ঈদে এমন কিছু পরিবার ও শ্রমিকভাইদের জন্য উপহার দেয়ার, যারা খুবই করুণভাবে দিন যাপন করছেন এই বিদেশ বিভূঁইয়ে। সেই সাথে রয়েছে ৯৬৯৮ পরিবারের যারা বাংলাদেশে খুবই নাজুক অবস্থায় দিনযাপন করছেন। যেই ভাবা, সেই কাজ। হয়ে গেল কাজ। করা হলো মিটিং, হয়ে গেলো লিস্ট। এবার পালা বাজেটের। বিশাল অংকের একটি ফিগার আসলো, এবং সবাই তাতে অভূতপূর্ব ভাবে সাড়াও দিয়ে দিল। এর মধ্যে যুক্ত হয়ে গেল ROYEX TECHNOLOGIES নামের একটি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান, যার কারণে পরিকল্পনার বাজেট বেড়ে দ্বিগুনে দাঁড়িয়ে গেল। অত্যন্ত ফলপ্রসূভাবে প্রজেক্ট সম্পাদন শুরু হলো। যেহেতু এটি একটি বন্ধুদের সংগঠন, এখানে নেই কোন সিনিয়র, নেই কোন জুনিয়র, নেই কোন পদ, নেই কোন বিভাজন। ইউ,এ,ই এর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা ৯৬৯৮ এর সদস্যরা তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে উপহার বিতরণ কাজে অংশ নিল।

ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরন কার্যক্রমের কো-স্পন্সরিং কোম্পানী ROYEX TECHNOLOGIES এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব রাজিব রায়। তিনি নিজেও একজন গর্বিত সদস্য এই গ্রুপের। তিনি বলেন, “আমাদের অবশ্যই সামাজিক দায়বদ্ধতা আছে। সেই বোধ থেকেই আমরা এগিয়ে এসেছি ৯৬৯৮ ইউ,এ,ই চ্যাপ্টারের সাথে যুক্ত হয়ে এমন মহতি একটি কাজে অংশ নিতে। ভবিষ্যতেও আমাদের প্রতিষ্ঠান এধরনের কার্যক্রমে যুক্ত থাকবে”। 

ইউ,এ,ই ৯৬৯৮ চ্যাপ্টারের অন্যতম সদস্য আফতাব মনির বলেন, “যেসব খাদ্য সামগ্রী আমরা বিতরণ করছি, আমরা কোনভাবেই এগুলোকে ত্রান বলে অন্যদের ছোট করতে চাইনা, এটি আমরা উপহার হিসেবে দিচ্ছি এবং তারাও স্বাচ্ছন্দ্যে তা গ্রহন করছে। এছাড়া বাংলাদেশে বসবাস করে এবং সমস্যাগ্রস্ত, এরকম ১০টি পরিবারের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে ১০০০০/- (পরিবার প্রতি), যা অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে করা হচ্ছে একমাত্র পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর যেন বন্ধুগুলোর পরিবার একটু ভাল করে করতে পারে। তাদের সব চাহিদাতো আমরা মেটাতে পারবোনা, তবে সামান্য হাসি যদি তাদের মুখে আমরা দেখতে পাই, তাতেই আমাদের প্রাপ্তি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনায় চেষ্টা করছি”।

গ্রুপের অন্যতম সদস্য কামাল হোসেন ভুঁইয়া (রতন) বলেন, “প্রতিটি বাক্সে রয়েছে ২০ কেজির খাদ্য সামগ্রী যা নিত্য প্রয়োজনীয়, সাথে রয়েছে ঈদের লাচ্ছা সেমাই, চিনি, দুধ, কিসমিস ইত্যাদি।জনসচেতনতার জন্য আমরা ২টি করে মাস্ক প্রতি বাক্সে রেখেছি। ভবিষ্যতে আমাদের কার্যক্রমের বিস্তৃতি দেখে অন্যান্য সংগঠনগুলোও এগিয়ে আসুক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। আমাদের ঈদ আনন্দ আমরা খুঁজে পেতে চাই প্রবাসী ভাই-বোনদের মাঝে, খুঁজে পেতে চাই দেশে থাকা আমাদের অভাবগ্রস্ত বন্ধুদের মাঝে। হয়তো আমাদের প্রয়াস তাদের ক্ষুদ্র চাহিদা মেটাবে, কিন্তু স্বপ্ন দেখি নতুন ভোরের আলোর, একটি করোনামুক্ত পৃথিবীর”।

গ্রুপের অন্যতম সদস্য মোহাম্মদ দিদার হোসেইন বলেন, “এখানেই আমাদের শেষ নয়, আল্লাহপাক যদি আমাদের সুস্থ রাখেন, আগামীতে গ্রুপের তরফ থেকে এই ধরনের কর্মসূচী অব্যাহত থাকবে”।

সকল সদস্যদের মাঝে উপহার সামগ্রীর বাক্সগুলো বন্টন করে দেয়া হয়ে যাতে করে তারা নিজ নিজ সময়ে লিস্ট অনুযায়ী বাক্সগুলো পোঁছাতে পারেন। যাদের জন্য এইসব উপহারসামগ্রী, তাদের নেয়া হবেনা কোন ছবি, করা হবেনা কোন ফিচার।

Advertisements

“এই খবরটি শুধুমাত্র প্রচার করা হচ্ছে, অন্যদের উৎসাহ প্রদান করার জন্য। কাউকে হাইলাইট করার জন্য নয়। করোনার তান্ডবে আজ আমাদের অনেক ভাইবোন বিপদগ্রস্ত। আমাদের নিজেদের প্রেক্ষাপট এবং সীমাবদ্ধতার মাঝেও আমরা যা করতে পেরেছি ও পারবো, তা কঠিন গোপনীয়তার মাধ্যমেই করা হবে” বলেছেন সগঠনের অন্যতম সদস্য শামীম আসাদুজ্জামান।

এই মহতি কাজের সাথে যুক্ত হয়ে একাগ্রতা প্রকাশ করেছেন ৯৬৯৮ ইউ,এ,ই চ্যাপ্টারের অন্যান্য সদস্যরা – অংশুমান, শাহির, জেসি, রজত, জামান, এমরান, মিঠু, শাহীন, রাশেদ, মনির, সোহেল, নিজাম, মোমিন প্রমুখ। ৯৬৯৮ গ্রুপ সংক্রান্ত যেকোন ধরনের তথ্য জানতে ও  এবং সদস্য সংগ্রহের জন্য [email protected] এ যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হচ্ছে। যদি কেউ ১৯৯৬-১৯৯৮ ব্যাচের হয়ে থাকেন এবং ইউ,এ,ই তে বসবাস করেন, উপরের ইমেইলে যোগাযোগ করলে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্তি করা হবে।

Drop your comments:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Pin It on Pinterest