সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ফারুক চৌধুরী আর নেই

এই লেখাটি 113 বার পঠিত

কূটনীতিক ও সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ফারুক আহমদ চৌধুরী (৮৪) আর নেই। আজ বুধবার ভোর সাড়ে ৪ টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে (ইন্না লিল্লাহি…রাজিউন)।

আজ বাদ আসর ধানমন্ডি ৭ নম্বর রোডের বাইতুল আমান জামে মসজিদে ফারুক আহমেদ চৌধুরীর জানাজা হবে। এর আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাঁর মরদেহ নেওয়া হবে। সেখানেও তাঁর জানাজা হওয়ার কথা।

অনেক ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী কূটনীতিক ফারুক আহমদ চৌধুরী। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ভাষা ও আচরণ কেমন হওয়া উচিত তা নির্ধারণে তার রয়েছে বিশেষ ভূমিকা। তিনি দেখেছেন ভারতবর্ষ থেকে পাকিস্তানের জন্ম, এর বিলয় এবং নতুন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উত্থান।

ফারুক চৌধুরীর জন্ম সিলেট জেলার করিমগঞ্জে বা শ্রীহট্ট, ১৯৩৪ সালের ১৪ জানুয়ারি। করিমগঞ্জ তখন সিলেটের অন্তর্ভুক্ত হলেও এখন তা আসামভুক্ত। বাবা গিয়াসুদ্দিন আহমদ চৌধুরী ছিলেন সরকারি চাকুরে, মা রফিকুন্নেছা খাতুন চৌধুরী। ম্যাজিস্ট্রেট বাবার প্রথম সন্তান ফারুক চৌধুরী, এরপর আরও ৫ সন্তানের জন্ম হয় গিয়াসুদ্দিন চৌধুরী দম্পতির। যাঁদের প্রায় সবাই পরবর্তী সময়ে খ্যাতিমান-সফল।

বাবা সরকারি চাকুরে, ফলে বদলি অবধারিত একটি ব্যাপার। এর সঙ্গে আরেকটি অবধারিত ব্যাপার ছিল, তা হলো স্কুল বদল। ফারুক চৌধুরী ১৯৪১ সালে ভর্তি হন সুনামগঞ্জ জুবেলি স্কুলে, এরপর ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত, এই আট বছরে বদলাতে হয়েছে ৮টি স্কুল। তবে স্কুল বদল ঘটলেও পড়াশোনায় ব্যত্যয় ঘটেনি। মাধ্যমিক শেষ করে চলে এলেন ঢাকায়। ঢাকা কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে ১৯৫২ সালে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, ইংরেজি সাহিত্যে।

চাকরিতে যোগ দিলেন ১৯৫৬ সালে, ফরেন সার্ভিস-এ। যোগ দেয়ার জন্য করাচি গমনের মাধ্যমে এই যে শুরু, তারপর তাঁকে নানা দেশে যেতে হয়েছে, পালন করেছেন অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। চাকরিজীবন শেষ করেন পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে। ছিলেন ভারত এবং পাকিস্তানে বাংলাদেশ প্রতিনিধি। ওআইসি এবং সার্ক প্রথম সম্মেলনের সমন্বয় ছাড়াও তিনি জাতিসংঘ এবং অন্যান্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। সরকারি চাকরি থেকে অবসরে যান ১৯৯২ সালে, এরপর তিনি বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের সঙ্গে যুক্ত হন। আজ অবধি এ যুক্ততা অব্যাহত আছে।

চাকরিসূত্রে ঘুরেছেন যেমন নানা দেশ, তেমন দেখা হয়েছে নানা রাষ্ট্রনায়কের সঙ্গে, সান্নিধ্য পেয়েছেন খ্যাতিমান মানুষের। এর মধ্যে রযেছেন—ফিলিস্তিন রাষ্ট্রনায়ক ইয়াসির আরাফাত, ভারতের প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী (১৯৮৭), চীনের প্রেসিডেন্ট ওয়েন জিয়াবাওয়ে (২০০৩), ভুটানের রাজা জিমে খেসার ওয়াংচুক, চীনের সর্বশেষ সম্রাট পু ই, বক্সার মোহাম্মদ আলী, আণবিক বিজ্ঞানী কাদির খান—এমন আরো অনেক নাম। তবে তাঁর কাছে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিশেষভাবে স্মরণীয়। একজন রাষ্ট্রনায়ক এবং দূরদর্শী কূটনীতিক বোধ ছিল তাঁর, যা নতুন একটি দেশকে বিশ্ব দরবারে গ্রহণীয় হতে সহায়তা করেছিল।

বিশেষ প্রতিবেদন



Contact us

E-mail: news@banglaexpress.ae(For News)
advt@banglaexpress.ae(For Ad)

Carrier

Text to Speech is becoming more and more wide spread in applications, mobile or not. This technology allows interaction of the application with the user on a much more personal level.

Join us

Copyright © Bangla Express 2015
Design & Development By: