জমির ক্ষতিপূরণে আস্ত ট্রেন পেলেন কৃষক!

এই লেখাটি 451 বার পঠিত

ট্রেনের লাইন বসানোর জন্য জমি নিয়েছিল রেলওয়ে। কিন্তু যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি জমির মালিককে। আদালতে নালিশ ঠুকে দেন জমির মালিক। আদালতের আদেশের পরও রেলওয়ে অর্থ দিচ্ছিল না। এরপর অদ্ভুত এক রায়ে আদালত বলেছে, যে ট্রেনের জন্য লাইন বসানো হয়েছে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ওই কৃষককে সেই ট্রেন দিতে হবে।

ঘটনাটি পাঞ্জাবের লুধিয়ানায়। ৪৫ বছর বয়সী কৃষক সম্পূরাণ সিংহের পক্ষে আদালত ওই রায় দিয়েছে।

হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, ট্রেনের লাইন বসানোর জন্য পাঞ্জাবের লুধিয়ানার কাটনা গ্রামের কৃষক সম্পূরাণ সিংহের জমি নিয়েছিল রেলওয়ে। কিন্তু ক্ষতিপূরণ না দেওয়ায় আদালতে নালিশ ঠুকে দেন তিনি। কিন্তু আদালতের নির্দেশের পরেও রেলওয়ে ক্ষতিপূরণ দেয়নি। এরপর সম্পূরাক সিং যান লুধিয়ানার অতিরিক্ত জেলা এবং দায়রা আদালতে। বিচারক জসপাল ভার্মা নির্দেশ দেন যে, স্বর্ণ শতাব্দী এক্সপ্রেস ট্রেনটি ক্ষতিপূরণ হিসেবে ওই কৃষককে দিয়ে দেওয়া হোক। এ রায়ের পর সম্পূরাণ সিংহ এখন কার্যত এই ট্রেনটির মালিক।

স্বর্ণ শতাব্দী এক্সপ্রেস ট্রেনটি অমৃতসর এবং দিল্লির মধ্যে চলাচল করে।

২০০৭ সালের লুধিয়ানা-চণ্ডীগড় রেললাইনের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে সম্পূরাণ সিংহের জমিও ছিল। জমির ক্ষতিপূরণ বাবদ ৪২ লাখ রুপি পেয়েছিলেন কৃষক সিং। কিন্তু ২০১৫ সালে আদালত নর্দান রেলওয়েকে বকেয়া বাবদ ১ কোটি ৫ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দিতে বলে। কিন্তু রেলওয়ে সেই টাকা দেয়নি। তার পরেই এই অদ্ভুত রায় হয়। শুধু স্বর্ণ শতাব্দী এক্সপ্রেসই নয়, লুধিয়ানার স্টেশন মাস্টারের অফিসকেও ক্ষতিপূরণের সম্পত্তি হিসেবে অ্যাটাচ করা হয়েছে।

সম্পূরাণ সিংহকে মালিকানা দিতে আদালতের ওই নির্দেশনামা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টারের কক্ষে সাঁটানো হয়েছে। ট্রেনটি লুধিয়ানায় ঢোকার প্রায় এক ঘণ্টা আগেই সম্পূরাণ তার আইনজীবী ও আদালতের প্রতিনিধিকে নিয়ে সেখানে হাজির হন। আদেশনামা চালকের হাতে তুলে দেওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে আদালতের প্রতিনিধির হাতে ট্রেনটি তুলে দেওয়া হয়। এ কাজটি সম্পূর্ণ হয় পাঁচ মিনিটে। সম্পূরাণ বলছেন ‘ট্রেনটিকে বেশিক্ষণ থামানো হয়নি। কারণ তা হলে বহু যাত্রীকে অসুবিধায় পড়তে হতো।’

কিন্তু ট্রেনের মালিক সম্পূরাণ কী করবেন ওই ট্রেন দিয়ে। তবে এবার তিনি ক্ষতিপূরণের টাকা পাবেন বলে আশাবাদী।

রেলওয়ের বিভাগীয় এক ব্যবস্থাপক বলেছেন, ‘এই ধরনের নির্দেশ সব সময়ই আইন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। যা করার আইন মোতাবেক করা হবে।’

বিশেষ প্রতিবেদন



Contact us

E-mail: news@banglaexpress.ae(For News)
advt@banglaexpress.ae(For Ad)

Carrier

Text to Speech is becoming more and more wide spread in applications, mobile or not. This technology allows interaction of the application with the user on a much more personal level.

Join us

Copyright © Bangla Express 2015
Design & Development By: