‘আমার জীবনে প্রিয় বলে কিছু নেই’

এই লেখাটি 3317 বার পঠিত

6454566খানিকটা অভিমানী, খানিকটা জেদিও। তবে স্বভাবজাত বিনয়ের আকাশে প্রায়শ ঢাকা পড়ে যায় অভিমান আর জেদের মেঘ। বলতে গেলে অল্প সময়ে সাফল্য যতোটুকু, তার পেছনে ওর জেদেই কাজ করেছে বেশি। একটুতেই, কাউকে ভালোবেসে কাছে টেনে নেয়ার অসম্ভব ক্ষমতা তার। সে কারণেই হয়তো একটু বেশিই অভিমান জমা থাকে মনের গহিনে। পাহাড়, সাগর আর বৃষ্টির প্রতি দুর্বলতা সেই বালকবেলা থেকেই। তাই সুযোগ পেলেই ছোটে বান্দরবান, কক্সবাজার। আর বৃষ্টিতে ভেজা হয় না ঠান্ডা লাগবে বলে! তবে টিনের ছাদে বৃষ্টির শব্দ শুনে শব্দচর্চা বা হাত বাড়িয়ে বৃষ্টির শরীর ছোঁয়া এসব এড়াতে পারে না কোনো নিষেধের বেড়াজাল। বলছি তরুন লেখক শান্তনু চৌধুরীর কথা।

পাহাড়ের জনপদ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার উত্তর ঢেমশা গ্রামে মধ্যবিত্ত দশটি ছেলের মতো কেটেছে শৈশব-কৈশোর। বাবার শাসন, মায়ের হাতের হলদি গন্ধ, কাদামাটি, বৃষ্টির রিমঝিম শব্দ, লুকিয়ে প্রেমপত্র লেখা, কখনো মার্বেল খেলতে গিয়ে মারামারি…। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখার প্রাতিষ্ঠানিক পাঠ গুটিয়ে ফেললেও স্বশিক্ষিত হওয়ার চেষ্টা চলছে প্রতিনিয়ত। সাংবাদিকতার হাতেখড়ি ১৯৯৯ সাল থেকে। এরপর গল্প, কবিতা। প্রকাশ হয়েছে পাচটি বই কথা প্রসঙ্গে-(বিখ্যাতদের মজার সাক্ষাতকার), তারার অন্তরালে (তারকাদের সাক্ষাতকার), প্রথম চিঠি (গল্পগ্রন্থ), ফিরে এসো (উপন্যাস)। দ্বিতীয় উপন্যাস ‘নারীসঙ্গ’। বর্তমানে কাজ করছেন দৃশ্যমান সংবাদ মাধ্যম সময় টেলিভিশনের যুগ্ম বার্তা সম্পাদক হিসেবে। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মোহাম্মদ ওমর ফারুক

*** প্রথমে লেখালেখির হাতের খড়ির গল্পটা শুনতে চাই?

শান্তনু চৌধুরী- ফুফুদের সাথে ঢাকার বাসাবো মাদারটেকের একটা বাসায় আমি থাকতাম। আমাদের চারতলায় ছিলেন নেপাল স্যার। তার ঘরভর্তি বই। তাদের সঙ্গে সু সুম্পর্কের কারণে সেই বইয়ের বিশাল রাজ্যে আমি ঢুকে গেলাম। পাঠ্যবই বাদ দিয়ে অন্যবইয়ে মনযোগ বেশি। সেই পড়াটা আমার বেশ কাজে লেগেছে। কলেজের এক শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়তাম। একটা রুমে আমরা কয়েকজন বসতাম। এর মধ্যে এক মেয়েকে বেশ ভালো লাগতো। ওর তিল, চুলের বাহার, ছাতা নিয়ে হেঁটে যাওয়া সবই অসাধারণ মনে হতো। মাঝে মাঝে ওর প্রশ্রয় পেতাম। খুব বৃষ্টির দিনে ইচ্ছে করেই আমি ছাতা নিতাম না। একই ছাতার নিচে যাবো বলে। এসব নিয়েই ছোট ছোট লেখা লিখতাম বিভিন্ন পত্রিকায়। ছাপাও হতো।

*** জীবনের প্রথম লেখাটি কি ছিল?

শান্তনু চৌধুরী- ছোট ছোট ছোট লেখাগুলোকে আমি ঠিক মনে রাখিনি। যেমনটি মনে রাখিনি ওই বালিকাকেও। ঈদের ছুটিতে বাসায় আমাকে একা রেখে সবাই বাড়িতে গেছেন। আমি ইচ্ছে করে যাইনি। প্রচুর তরকারি রান্না করা আছে। শুধু ভাত রান্না করে খাওয়া। তেমন একদিন চুলায় ভাত তুলে দিয়ে ডাইনিং টেবিলে বসে লেখা শুরু করে দিলাম। ‘সৎসঙ্গ’ নামে একটি মানবহিতোষী প্রতিষ্ঠান নিয়ে। ভাত ফুটে ওঠলো। লেখাটিও শেষ হলো।

*** প্রথম লেখা ছাপা হওয়ার অনুভুতি কেমন ছিল?

শান্তনু চৌধুরী- তখন মুক্তকণ্ঠ নামে একটি পত্রিকা এসেছে। কারওয়ান বাজার অফিস। কলেজ থেকে হেঁটে হেঁটে পত্রিকা অফিসে এসে বক্সের মধ্যে লেখাটি দিলাম। কিছুদিন পর ছাপা হলো ‘মুক্তমত’ কলামে। ঠিক কী করেছিলাম মনে নেই। বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয় স্বজনকে দেখিয়েছি। বিশেষ করে চারতলার আংকেল-আন্টিদের। পরে আরেকটা লেখা দিতে গিয়ে ওখানে একজন বললেন, ‘শান্তনু চৌধুরী’র নামে একটা বিল আছে।’ বললাম, ‘আমি শান্তনু।’ তিনি বেশ কয়েকবার সন্ধিগ্ধ দৃষ্টিতে আমাকে দেখলেন। হয়তো বয়স আর সাইজ দেখে অবাক হলেন। ওই কলামে সাধারণত প্রবীণ, বুদ্ধিজীবীদের লেখা ছাপা হয়। পরে সাতশো টাকার একটা চেক দিয়েছিলেন আমাকে। কিন্তু মুশকিল হলো ওই চেক ক্যাশ করতে হলে নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট লাগবে। সে সময় আমার কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ছিল না।

*** এই পর্যন্ত আপনার বইগুলো সম্পর্কে জানতে চাই?

শান্তনু চৌধুরী- প্রথম বই কথা প্রসঙ্গে- বইটি বাংলাদেশের বিখ্যাত তারকাদের নিয়ে মজার ঘটনা। দ্বিতীয় বই ‘তারার অন্তরালে’ একটি সেলিব্রেটি প্রকল্প। বীর চট্টলার সেলিব্রেটি। যারা একসময় চট্টগ্রামে কাটিয়েছেন তারা আছেন এই গ্রন্থে। রম্যলেখক আহসান হাবীব এই প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘এই তরুণ শুধু সেলিব্রেটিদের নিয়ে কাজ করে কেনো এটাও একটা রহস্য। তবে আমার ধারণা সে নিজেও একদিন সেলিব্রেটি হয়ে উঠবে দেখে ওর এই সেলিব্রেটি প্রকল্প।’ প্রথম চিঠি’র গল্পগুলো সমাজের নানা অসঙ্গতি নিয়ে। প্রথম উপন্যাস ‘ফিরে এসো’ প্রেমের বালুকাবেলার একটি জলছাপ মাত্র। দ্বিতীয় উপন্যাস ‘নারীসঙ্গ’। একজন মানুষ উঁচুতে উঠতে গিয়ে নিজেকে কতোটা নিচে নামাতে পারে, ভুল সিদ্ধান্ত, লাগামহীন জীবন, আবার তার বিপরীতে দাঁড়িয়ে আমাদের সমাজের মুখোশপরা কিছু মানুষ, তারাও আছেন ‘নারীসঙ্গ’এ। চাষ চলছে আরো দুটি উপন্যাসের।

*** প্রত্যেক বছর হাজার হাজার বই বের হয়, লেখার মান নিয়েও ওঠে নানা প্রশ্ন এর থেকে নিজেকে আলাদা করবেন কীভাবে?

শান্তনু চৌধুরী- এই যে মানদ-ের কথা আমরা বলি। সেটা নির্ধারণ করবে কে? নিশ্চয় পাঠক। এখন পাঠকের রুচিবোধ তৈরি করার দায়িত্বও কিন্তু লেখকের। আমার মনে হয় পাঠক ঘুরতে ঘুরতে ঠিকই তার রুচির জায়গায় পৌঁছে যাবে। আর লেখা ভালো না হলে সেটাতো টিকে থাকবে না। আমি চেষ্টা করি আমার মতো করে পাঠককে কিছু জানাতে। সেটা পাঠক গ্রহণ করে বলেই হয়তো বই বিক্রি হয়। আবার ভালো না লাগলে হয়তো আমাকে ভাবতে হবে। পাঠকেই লেখকের মূল ভরসা।

*** আপনার পড়াশোনা ?

শান্তনু চৌধুরী- ঢেমশা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি, তেজগাঁও কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৫ তম ব্যাচের দর্শন বিভাগ থেকে স্নাতক এবং একই বিভাগ থেকে ২০০৪ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেই। সাংবাদিকতা, আবৃত্তি, ছবি তোলা নিয়ে বিভিন্ন কোর্সতো রয়েছেই এছাড়া নৈসর্গিক পাঠ আমার জীবনে বেশ গুরুত্বপূর্ণ এবং সেই শিক্ষাটা পেয়েছি বলতে গেলে পাহাড়ের খোঁপে খোঁপে গড়ে ওঠা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। পড়ালেখার প্রাতিষ্ঠানিক পাঠ গুটিয়ে ফেললেও স্বশিক্ষিত হওয়ার চেষ্টা চলছে প্রতিনিয়ত।

696545465*** সাংবাদিকতায় কীভাবে আসা?

শান্তনু চৌধুরী- সরাসরি চাকরি নিয়ে সাংবাদিকতা শুরু করেনি। ভোরের কাগজ এর ‘অবসর’ এ মাঝে মাঝে ছোট ছোট লেখা লিখতাম। পরে প্রথম আলো পাঠক সংগঠন ‘বন্ধুসভা’র সাথে যুক্ত হই। ছাত্রাবস্থায় ১৯৯৮ সালে প্রথম আলোর সুমন্ত আসলামের সম্পাদনায় ‘আলপিন’ এ প্রদায়ক হিসেবে শুরু। পরে উচ্চ শিক্ষার্থে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। যেহেতু সাংবাদিকতার নেশা সে কারণে খুঁজতে থাকি চট্টগ্রামে গিয়ে কীভাবে কাজ শুরু করি। চট্টগ্রাম শহরের কিছুই আমি তখন চিনি না। বাবা-কাকা’র সাথে এর আগে আসা হয়েছে বটে, তবে সেটা চিনে রাখার মতো না। সেখানে প্রথম পরিচয় হয় জাগরণ চাকমা নামে একজন সাংবাদিকের সাথে। তিনি প্রথম আলো’র আঞ্চলিক প্রকাশনা ‘আলোকিত চট্টগ্রাম’ এ কাজ করার জন্য প্রথম আলো অফিসে এনে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। পরে বন্ধু সাংবাদিক সুজয় মহাজন নিয়ে যান চট্টগ্রামের আঞ্চলিক দৈনিক বীর চট্টগ্রাম মঞ্চে। রশীদ মামুন নামে এক বড় ভাই স্নেহের পরশে আমাকে টেনে নেন। আমি কাজ করতে শুরু করি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে। এরপর জনকণ্ঠে, দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশে নিজস্ব প্রতিবেদক। একদিন উচ্চশিক্ষার্থে মেঠোপথ ছেড়ে যেমন পাড়ি দিয়েছিলাম শহুরে গন্ধে মাতবে বলে, তেমনি ঢাকায় ফিরে আসা সময়ের প্রয়োজনে। দৈনিক ভোরের কাগজ, দৈনিক সংবাদপত্র, রেডিও এবিসিতে বার্তা প্রযোজক এবং যুগ্ম-বার্তা সম্পাদক হিসেবে বেসরকারি টিভি চ্যানেল এসএ টেলিভিশনে কাজ করেছি। এখন ব্যস্ত সময় টিভির অন্দরমহলে।

*** জীবনের স্বপ্ন কী ছিল?

শান্তনু চৌধুরী- ব্যক্তি জীবনে আমি একটু ‘স্যাডিস্ট’। তাই জীবনের স্বপ্ন বলে তেমন কিছু সাজাইনি। হয়তো আর দশজন বাবা মায়ের মতো আমার অভিভাবকদেরও স্বপ্ন ছিল, আমি জানি না কারণ তারা কখনো সেটা বলেননি। যাপিত জীবনে টানাপোড়েন থাকলে অর্থটাই মূখ্য হয়ে ওঠে। সে কারণে অফিস, বউ, বাচ্চা এসব নিয়েই হয়তো উনারা ভাবতেন। কিন্তু আমি চেয়েছি যাই করিনা কেনো সেরা কিছু করবো। সে কারণে কোনো পরীক্ষায় আমি সেকেন্ড হয়নি। আমার চেষ্টা ছিল বা আছে, বাকিটা হয়তো ভেতরের উপাদানের ওপর নির্ভর করে। আরো আরো উঁচুতে ওঠাই আমার স্বপ্ন।

 

6596565

*** সাংবাদিকতা আর লেখালেখি সমানে চালিয়ে নেন কীভাবে?

শান্তনু চৌধুরী- আপাতত প্রথমে আমি সাংবাদিক পরে লেখক। প্রযুক্তিগত ভাবে চেষ্টা করি সবসময় এগিয়ে থাকতে। মুঠোফোনেই এখন সংবাদের সবশেষ জেনে নেয়া হয়। এভাবেই নিজেকে এগিয়ে রাখা। টুইটার, ফেসবুক, ভাইবার বা মেইলেও আমি সচেতন থাকার চেষ্টা করি। রিপ্লাই বা রেসপন্স করি দ্রুত। আর অফিসে যখন থাকি তখন পুরোদস্তুর সংবাদের মধ্যেই থাকতে হয়। এর বাইরে অবসর বলতে পড়া আর লেখালেখি করা। আবার একা একা উদ্দেশ্যহীন ঘুরতে আমি পছন্দ করি। এমনো হয়েছে তীব্র গরমে কোনো এক রাস্তার পাশের ফুটপাতে বসে আছি অকারণে।

*** আপনার লেখা সবচেয়ে পছন্দের বই কোনটি?

শান্তনু চৌধুরী- আমার সে অর্থে খুব বেশি বই প্রকাশ হয়নি। আর এর মধ্যে খুব ভালো লাগার কোনো বই আমার নেই। মনে হয়, ভালো কিছু এখনো লিখতে পারিনি। তবে যে দুটি উপন্যাস লিখছি, সেগুলো ভালো হচ্ছে বলে আমার বিশ্বাস।

*** লেখালেখিতে আপনার অনুপ্রেরণা কে?

শান্তনু চৌধুরী- বাবার শাসন, মায়ের হাতের হলদি গন্ধ, কাদামাটি, বৃষ্টির রিমঝিম শব্দ, লুকিয়ে প্রেমপত্র লেখা, কখনো মার্বেল খেলতে গিয়ে মারামারি। নদী, ফুল, পাখি, ডাহুকের বিচিত্র ডাক আমাকে বিমোহিত করে। গ্রাম্য মেলায় কিশোরীর খোঁপায় ফুল গুঁজে দেয়ার স্মৃতিকাতরতা, উঠোনে কাঁথা সেলাইয়ে বসা ঠাকুরমার আঁচলে মুখ লুকিয়ে ভূতের গল্প শোনার মতো মধ্যবিত্ত শিশু বিনোদন, আর রাতের নীরবতা ভেদ করে মৃদঙ্গের তালে তালে পুঁথিপাঠের আসর ভালোলাগে আমার। নারীর প্রেম, প্রকৃতি এসবই অনুপ্রেরণা। সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা মানুষ দেখা।

*** যখন সাংবাদিকতা পেশা বা লেখালেখি বেছে নিয়েছেন পরিবার ব্যাপারটি কীভাবে নিয়েছে?

শান্তনু চৌধুরী- আমি যে পরিবারে বড় হয়েছি, সেটা আদি জমিদার বাড়ি। এদের রক্তে জেদের নেশা আর অর্থবিত্তের লোভ। সে কারণে এই বিষয়টা যে ভালোভাবে নেবে না সেটাই স্বাভাবিক। তবে একথা ঠিক, একটা পর্যায়ে যখন বুঝে যায় ‘আমাদের ছেলেটা ভালো করছে’ তখন সবাই মেনে নেয়। প্রশংসা করে।

*** প্রথম যখন লেখালেখি শুরু করেছেন তখন বন্ধুবান্ধবরা কীভাবে নিয়েছে এখন কীভাবে নিচ্ছে?

শান্তনু চৌধুরী- প্রথম বা এখন যাই হোক বন্ধুরা সবসময় লেখালেখিতে উৎসাহ দিয়ে এসেছে। ওরা আছে বলেই না নিঃশ্বাস এখনো বিশ্বাস নিতে শেখায়।

*** বাকি জীবনের স্বপ্ন কী?

শান্তনু চৌধুরী- আমি যখনই যে কাজটা করি মনযোগ দিয়ে করার চেষ্টা করি। কতোটা সফল হতে পারি সেটা ওপরওয়ালাই জানেন। তবে এটা ঠিক চূড়ান্ত বিচার বলেতো কিছুই নেই। আমি যা কিছু করি তাতে আমি সেরাটা যেমন দিতে চাই, তেমনি সেরাটা হতে চাই। বাকিটা আগামী বলবে।

6656565959*** একজন লেখক হিসেবে আপনার প্রিয় লেখক কে?

শান্তনু চৌধুরী- আমার জীবনে প্রিয় বলে কিছু নেই। পাঠক হিসেবে আমি সর্বগ্রাসী। রাস্তায় গাড়িতে গাড়িতে ছুড়ে মারা ‘জীবন সঞ্জীবনী’ লিফলেট যেমন আমি পড়ি। তেমনি অনেক বিখ্যাত লেখকের ভারী ভারী বইও আমি পড়তে চেষ্টা করি। তবে পড়ার একটা বিষয় হলো ‘আনন্দের জন্য পড়া।’ বই পড়তে শুরু করার পর যদি সেটা আমার মনযোগ ধরে রাখতে পারে তখন সেটা আমি পড়ি। আবার কিছু বই পড়তে হয় জানার জন্য।

*** আপনার বেশির ভাগ বই প্রেম বিরহ, এই ধরনের বই লেখার কি কোনো রহস্য আছে ?

শান্তনু চৌধুরী- সৃষ্টির আদিকাল বা আদিকালের সৃষ্টি, সবটার মূলেই প্রেম। জ্যোৎস্না রাতে পাহাড় চূড়া, ভরা হাওড় বা নদীর বাঁক দেখে বিমূর্ত হই আমি। তাই ভালোবেসে ফেলি ‘ভালোবাসা’কে। রোদ্দুর বা ভরা বর্ষা হতে মন চায়। বাঁশবাগানের মাথার ওপর চাঁদ দেখে সেটাও পেড়ে আনার সাধ জাগে। মেঠো পথে হাঁটতে গিয়ে দুলে উঠা ধানের শিষ, হিজলতলায় ঠা-া হিমেল বাতাস, নাম না জানা ফুলের বিচিত্র আবাহন, গাছের ছায়ায় দুই শরীরের উষ্ণ আলিঙ্গনে সৃষ্ট বাঁশির সুর, বৃষ্টির অপরূপ ছন্দ, পদ্মপুকুরের জল আর ঢেউ বা দূর ভুবনে মাথায় গামছা বেঁধে বসে থাকা কিষানের মুখে কিষানীর পান্তা ভাত তুলে দেয়া সবকিছুতেই আন্দোলিত হই। ভালোবাসায় ভরপুর মন, স্বাভাবিক নিয়মেই পরবর্তী জীবনের সাহিত্যকর্মে মূল উপজীব্য হয়ে উঠে ভালোবাসাটাই। আমার ভেতর প্রেম টগবগ করে ফুটে বলেই হয়তো লেখাগুলো আসে প্রেম হয়ে।

*** বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের একটি গল্প শুনতে চাই যা আপনার অনুপ্রেরণা?

শান্তনু চৌধুরী- বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম সাধারণ দশটা ছাত্রের মতোই। কিন্তু যখন সবাই ধীরে ধীরে আমার লেখক সত্তাটা জানতে পারলো, আলাদা একটু খাতির। বিশেষ করে মেয়েরা জারুলতলা, ঝুপড়ি বা কোথাও বসে একটু আলাদা আড্ডা দেয়া। অন্য বিভাগের কেউ কেউ পত্রিকায় লেখা দেখে এসে পরিচয় হতে চাওয়া। বেশ লাগতো। তবে আমার অকাল প্রয়াত বন্ধু কবি শ্রাবণী সেন শাওন এর একটা শুভ কামনা আমাকে এখনো আন্দোলিত করে , ‘সব হাওয়ায় মাতানো স্বপ্ন আমার হাওয়াতেই ভাসে। চোখ বুজে তুই দুম করে নিয়ে নেয় একমুঠো। তারপর হৃদয়ের ঝাঁপিটা বন্দী করে রাখ। যেদিন সত্যি সত্যি তাজিনডং এর চেয়েও উঁচুতে তুই পৌঁছুবি, মনে রাখবি তোর দোস্ত শাওন পাহাড় ছুঁতে চেয়েছিল স্রেফ এক মুহূর্তের জন্য। আমার এই সলিড স্বপ্নমঙ্গলটা তোকে দিলাম। তোর লেখার জন্য শুভ শুভ শুভ কামনা…।’

*** একটি বই লিখতে গেলে একজন লেখকের কী কী গুণাগুণ থাকা জরুরী?

শান্তনু চৌধুরী- নির্দিষ্ট কোনো গুণের কথা আমি জানি না। যে যার যার মতো করে মনের ভাব প্রকাশ করবে। সেটা আদৌ লেখা হয়ে ওঠলো কিনা সে বিচারতো পাঠকের হাতে।

*** নিজের কাজ গুলো মূল্যায়ন করবেন কীভাবে?

শান্তনু চৌধুরী- মূল্যায়ন করার মতো কোনো কাজ আসলে আমি করেছি বলে মনে হয় না। আমার অগ্রজ যারা বা অনুজ যারা তারা হয়তো ভালো বলতে পারবেন।

*** আপনার বর্তমান কর্মস্থল সময় টেলিভিশন, সেখানকার ব্যস্ততা কেমন?

শান্তনু চৌধুরী- আমি কাজ করছি যুগ্ম বার্তা সম্পাদক হিসেবে। আপনি জানেন, চব্বিশ ঘণ্টার সংবাদ মাধ্যম হিসেবে সময় সংবাদের দিকে দর্শকের নজর সবচেয়ে বেশি। সে হিসেবে আমাদের ব্যস্ততা ও বেশি। বিশেষ করে আমরা চেষ্টা করি দর্শকের কাছে সবার আগে সঠিক সংবাদটি পৌঁছে দিতে। আমাদের ড্রাইভার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ লিডার সবসময় তৎপর সংবাদ দর্শকের কাছে পৌঁছাতে। টিম ওয়ার্ক যেমন ভালো তেমনি ভালো টিম লিডাররা। তাই আমরা কাজ করি আনন্দের মাঝে।

*** আপনার লেখায় আপনি দশ থেকে কত নাম্বার দেবেন?

শান্তনু চৌধুরী- প্লিজ এটা পাঠকদের জন্য রেখে দেন। বা আপনার কোনো মূল্যায়ন থাকলে বলতে পারেন।

*** অবসর কাটে কীভাবে?

শান্তনু চৌধুরী- আমার আসলে নির্দিষ্ট অবসর বলে কিছু নেই। মনে হয় ঘুমানোর সময় ছাড়া ২৪ ঘণ্টা ব্যস্ত। আবার এমনো হয়েছে বেশ কয়েকদিন কিছুই করছি না। লিখি না, পড়ি না। শুধু ঘুমাই আর ঘুমাই।

***শান্তনু চৌধুরী আপনাকে ধন্যবাদ
শান্তনু চৌধুরী- আপনাকেও ধন্যবাদ আমার সাক্ষাৎকার নেয়ার জন্য

বিশেষ প্রতিবেদন



Contact us

E-mail: news@banglaexpress.ae(For News)
advt@banglaexpress.ae(For Ad)

Carrier

Text to Speech is becoming more and more wide spread in applications, mobile or not. This technology allows interaction of the application with the user on a much more personal level.

Join us

Copyright © Bangla Express 2015
Design & Development By: